আপনি কি হেপাটাইটিস বি পজিটিভ?

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসকে বর্তমান সময়ের অন্যতম এক ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। বাংলাদেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশ লক্ষণীয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে বা রক্ত দিতে গিয়ে মানুষ জানতে পারেন যে তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি রক্তে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘকাল অবস্থান করতে পারে।

সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে হেপাটাইটিস বি থেকে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ও সঠিক তথ্য জানা আমাদের সবার জন্য জরুরি।

হেপাটাইটিস বি পজিটিভ কি না বুঝবেন কীভাবে?

আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো উপসর্গ শুরুতে নাও থাকতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণের ৪ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে সময় লাগে (ইনকিউবেশন পিরিয়ড)। সাধারণ কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে:

  • ফ্লু-এর মতো জ্বর এবং শরীর ক্লান্তিবোধ করা।
  • শরীর টনটন করা এবং মাংসপেশিতে ব্যথা।
  • বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং প্রচণ্ড ক্ষুধামন্দা।

আপনার শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কি না তা জানতে একজন পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিশেষজ্ঞ (Hepatologist) চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বা পেশার মানুষের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে:

  • আক্রান্ত মায়ের নবজাতক সন্তান।
  • যারা ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশাদ্রব্য গ্রহণ করেন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য বা জীবনসঙ্গী।
  • স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মী (সার্জন, নার্স, ডেন্টিস্ট, প্যাথলজি ও ডায়ালিসিস ইউনিটের কর্মী)।

হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হলে আপনার করণীয়

যদি কারো শরীরে এই ভাইরাস ধরা পড়ে, তবে ঘাবড়ে না গিয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

  • পরিবারের পরীক্ষা: পরিবারের অন্য সদস্যদের শরীরে এই ভাইরাস আছে কি না তা দ্রুত পরীক্ষা করে নিন। যাদের নেই, তারা টিকা বা ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।
  • গর্ভবতী মায়েদের সতর্কতা: কোনো গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে তাকে অবশ্যই গাইনি এবং লিভার বিশেষজ্ঞের অধীনে থাকতে হবে। প্রসবের পর নবজাতককে দ্রুত প্রতিষেধক দিতে হবে।
  • রক্তদান থেকে বিরত থাকা: এই ভাইরাস বহনকারী ব্যক্তি অন্য কাউকে রক্ত দিতে পারবেন না।

জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও প্রতিরোধ

সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রার কিছু নিয়ম মেনে চললে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়:

  • খাদ্যাভ্যাস: তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ও মাটন (খাসির মাংস) পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন এবং প্রচুর ফলমূল ও সালাদ খান।
  • ব্যায়াম ও হাঁটা: প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • বর্জনীয় বিষয়: ধূমপান ও মদ্যপান লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তাই এগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • সুরক্ষা: নিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের জন্য কনডম ব্যবহার করুন এবং দ্রুত হেপাটাইটিস-বি এর প্রতিষেধক গ্রহণ করুন।

বিশেষ পরামর্শ:

অনেকের ধারণা হেপাটাইটিস বি-এর কোনো চিকিৎসা নেই—এটি একটি ভুল ধারণা। বর্তমান সময়ে অত্যন্ত কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাময় সম্ভব। তাই অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে। নিয়মিত চেকআপ করুন এবং সচেতন থাকুন।

অন্যান্য পোস্ট

রোজা রেখে কী করা যাবে ও কী করা যাবে না

পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের...

কোন উপসর্গ দেখলে কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

অসুস্থতা বলে কয়ে আসে না। আর যখন প্রথমবার...